| আপডেট ১২:২৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট

পূর্বধলা(নেত্রকোনা)প্রতিনিধি:-
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার আতকাপাড়া গিরিপথ ফিলিং স্টেশন থেকে ১০৫০ লিটার ডিজেল অবৈধভাবে পাচারের সময় জব্দ করেছে স্থানীয় জনতা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত ৩ জনকে আটক ও ডিজেল জব্দ করে।
জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ৬টার দিকে একটি কভার ভ্যানে ৫টি ড্রামে করে প্রায় ১০০০ লিটার ডিজেল এবং একটি পিকআপ ভ্যানে ৫০ লিটার ডিজেল ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা আটক করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, প্রায় প্রতিদিনই রাতের বেলায় গোপনে তেল পাচার করা হয়। আজ ভোরবেলায় গোপনে ডিজেল পরিবহনের সময় জনতার সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে জ্বালানি জব্দ করা হয়।
আটক কভারভ্যান (ঢাকা মেট্রো-অ, ১১-৫৭৯০) থেকে ১০৫০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। আটককৃতরা হলেন ছোটন মিয়া (৩৫), শামীম আহমেদ (৪০) ও মফিজুল ইসলাম (৩৫)। এরা ৩ জনই গাড়ির চালক ছিল। মালিক পক্ষের কেউ উপস্থিত ছিল না। আজ সকাল ৯টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসনিম জাহান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। পেট্রোলিয়াম আইন ২০১৬-এর ২০ ধারা অনুযায়ী অবৈধভাবে তেল পাচারের দায়ে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার হাসান ফকির(৩৭)-কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এবং জব্দকৃত ডিজেল স্থানীয় খাল খনন প্রকল্পে হস্তান্তর করা হয়েছে । তিনি আরো জানান এখন থেকে আরো কঠোর নজরদারি করা হবে।
এ বিষয়ে পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ দিদারুল ইসলাম ও পুলিশ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে সবাই ড্রাইভার থাকায় তাদের আদালতের নির্দেশে ছেরে দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গিরিপথ ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে জ্বালানি পাচারের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে ও বুধবার (২২ এপ্রিল) ভোরে এই পাম্প থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়াই পেট্রোল বিতরণের অভিযোগ ওঠে।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাসনিম জাহান জানান, ট্যাগ অফিসার ও প্রশাসনের অনুপস্থিতিতে পাম্প ম্যানেজার অনিয়মের মাধ্যমে পেট্রোল বিক্রি করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ম্যানেজার বিষয়টি স্বীকার করে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার হাসান ফকির দাবি করেন, ভোররাতে একদল লোক ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক তেল নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, জ্বালানি পাচার রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

.
.