| আপডেট ৭:৫৭ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট
বিশেষ প্রতিনিধি:-
বাংলাদেশের শিক্ষা কাঠামো আজ এক গভীর সংকটের মুখোমুখি। একদিকে যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীরা দীর্ঘ বছর ধরে শিক্ষক হিসেবে কাজ করার স্বপ্ন বুকে লালন করে আসছেন, অন্যদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার জটিলতা, বিলম্ব ও প্রশাসনিক গড়িমসির কারণে তাদের সেই স্বপ্ন ক্রমেই অধরা হয়ে উঠছে। আর সেই কারণেই—১–১২ তম নিয়োগ-বঞ্চিত শিক্ষকরা আজ রাস্তায়। প্রশ্ন একটাই—এরা রাস্তায় থাকবে কেন?
শিক্ষকতা শুধু একটি চাকরি নয়; এটি জাতি গঠনের নিয়ামক শক্তি। যারা এই চাকরির জন্য বছরের পর বছর পরিশ্রম করেন, যোগ্যতা অর্জন করেন, পরীক্ষা দেন—তাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব স্বীকার না করলে সেটি হতাশার জন্ম দেয়। বর্তমানে চলমান পরিস্থিতি ঠিক তেমনটাই করেছে। নিয়োগের দীর্ঘসূত্রিতা এমন এক মানসিক যন্ত্রণা তৈরি করেছে, যা একজন শিক্ষকের পক্ষে লজ্জা ও বেদনাদায়ক।
আজ পথে নেমে আসা এই শিক্ষকরা কেউ বয়সসীমা পার করছেন, কেউ পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন, কেউ আবার সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অথচ তারা সকলেই যোগ্য, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, কেবল নিয়োগপত্র হাতে পেতে দেরি হচ্ছে—কারণ প্রশাসনিক জট।
রাষ্ট্র যদি যোগ্যদের মূল্যায়ন না করে, যদি পরীক্ষায় পাশ করার পরও বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়—তবে মেধাবীরা কি হতাশ হবে না? দেশ কি তার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হারাবে না?
বাংলাদেশ তো সবার—তাহলে শিক্ষকরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে নিয়োগ চাইতে বাধ্য হবেন কেন?
জাতি এই প্রশ্নের উত্তর অপেক্ষা করছে।
একাধিক আন্দোলনকারি শিক্ষক বলেন, একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে সরকারের উচিত দ্রুত সমাধানের পথে এগিয়ে আসা, যাতে কোনো শিক্ষককে আর রাতজেগে রাস্তায় আন্দোলন করতে না হয়। শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড ভেঙে গেলে কোনো জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না—ইতিহাসের অভিজ্ঞতা সবারই জানা।

.
.