| আপডেট ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট

পূর্বধলা(নেত্রকোনা)প্রতিনিধি:-
নেত্রকোনার পূর্বধলায় জামায়াতের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের তিন নেতাকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি জামায়াতের এমপির গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর স্থানীয় নেতারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মাঠে ও জাতীয় সংসদে। এমপি ও দলীয় নেতাদের মতে, রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের হামলার সুষ্ঠু বিচার জরুরি এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে থানায় ৬৬ নেতা কর্মীর নামে মামলা করে বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে। রবিববার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রকাশিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সন্ত্রাস, হানাহানি ও শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইশতিয়াক আহম্মেদ বাবুকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নেত্রকোণা জেলা শাখার অধীন পূর্বধলা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সাজু আহম্মেদকে তার সাংগঠনিক পদ থেকে এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোলায়মান কবিরকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। একই সঙ্গে সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃতদের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর স্থানীয় নেতারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল জাতীয় সংসদে। এমপি ও দলীয় নেতাদের মতে, রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের হামলার সুষ্ঠু বিচার জরুরি ছিল।
অন্যদিকে বহিষ্কৃত নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। এটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার উদ্দেশ্যে সাজানো অভিযোগ বলেও দাবি করেন তারা।
তাদের মতে, বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা পূর্বধলার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং ভবিষ্যতে দলগুলোর মধ্যে সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। অপরদিকে সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফার গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরুকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বজলুল রহমান পাঠান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল কাদের সুজা, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন খান মিলকি এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনিক মাহবুব চৌধুরী।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাটি কেন এবং কাদের মাধ্যমে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতেই এই কমিটি। তদন্ত কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নেত্রকোণা জেলা বিএনপির একজন নেতা বলেন, দলের একজন সংসদ সদস্যের ওপর এমন হামলা বা গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

.
.