| আপডেট ৪:৩১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট

পূর্বধলা(নেত্রকোনা)প্রতিনিধি:-
নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফার ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে দায়ের করা মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে পূর্বধলা উপজেলা বিএনপি।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকালে পূর্বধলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ফকির।
লিখিত বক্তব্য তিনি বলেন, সম্প্রতি সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফাকে ঘিরে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় উপজেলা বিএনপি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে স্থানীয় সাংসদ মাসুম মোস্তফা মেসার্স গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে যান। সে সময় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্টেশনটি বন্ধ ছিল। পরে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে সাংসদের সহকারী আল আমিনের সঙ্গে সেখানে উপস্থিত জনতার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপস্থিত জনতা গাড়ি ভাঙচুর করে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, ঘটনা জানার পর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আলম তালুকদার ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের তালুকদারকে প্রধান আসামি করে ৬৩ জনের নামে যে মামলা করা হয়েছে, তা ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ঘটনার সময় আবু তাহের তালুকদার ঢাকায় অবস্থান করছিলেন, যা সহজেই যাচাইযোগ্য। তবুও তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি বিএনপি নেতাদের।
এছাড়া মামলার কয়েকজন আসামির বিষয়ে বিএনপি নেতারা বলেন, ৪৭ নম্বর আসামি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু বকর রানা গত প্রায় তিন মাস ধরে ময়মনসিংহের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ২২ নম্বর আসামি মানিক মিয়া দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং ৫৯ নম্বর আসামি আব্দুল্লাহ সাকিব ঘটনাস্থলে একজন সাংবাদিক হিসেবে সংবাদ সংগ্রহে উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে বিএনপি চার দফা দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলো হলো-
১. দায়ের করা মামলাটি অবিলম্বে প্রত্যাহার,
২. নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা,
৩. নিরীহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধ করা এবং
৪. রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড পরিহার করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ বাবুল তালুকদার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক রুহুল আমিন ফকির, সায়েদ আল মামুন শহীদ ফকির, সেলিম উদ্দিন, আব্দুল গফুর, উপজেলা মৎস্যজীবি দলের সভাপতি আবুল কাসেমসহ উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

.
.