| আপডেট ২:৪৭ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধর, ছিনতাই, বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি শিশির আহম্মদ তালুকদার রাতুল (২২)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ময়মনসিংহ শহরের চরপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত রাতুল পূর্বধলা উপজেলার শালদিঘা গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে।
পূর্বধলা থানার মামলা নং-১৯ (তারিখ: ১১ জুন ২০২৬) এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শরিফ হোসেন রওশান (২০) গত ১০ জুন সন্ধ্যায় নেত্রকোণা সদরের নতুন বাইপাস এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে ভুলবশত পূর্বধলার শালদিঘা এলাকায় নেমে পড়েন। পরে ত্রিমোহনীর দিকে হেঁটে যাওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তার পথরোধ করে নির্জন স্থানে নিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, সেখানে তাকে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নগদ ৪ হাজার ৫৬০ টাকা, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা এবং বিকাশ লোনের ১ হাজার ৫০০ টাকাসহ মোট ১৬ হাজার ৬০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনে থাকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য দেখার পর তাকে বিভিন্ন মন্তব্য করে পুনরায় মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক কিছু বক্তব্য ও স্লোগান বলতে বাধ্য করা হয় এবং বিবস্ত্র অবস্থায় ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পূর্বধলা থানায় অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারাসহ সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মামলার তদন্তকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত রাতুলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ময়মনসিংহ শহরের চরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত আসামির হেফাজত থেকে ভুক্তভোগীর ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন এবং ছিনিয়ে নেওয়া টাকার মধ্যে ৪ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পূর্বধলা থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের লক্ষ্যে সময় বৃদ্ধির আবেদনসহ গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

.
.