| আপডেট ৬:৫৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট

পূর্বধলা (নেত্রকোনা)প্রতিনিধি:
‘দ্রোহ ও জাগরণে জুলাই স্মরণে সংলাপ ও দোয়া মাহফিল’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৩টায় নেত্রকোনার পূর্বধলা প্রেসক্লাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, পূর্বধলা উপজেলা শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, পূর্বধলা উপজেলা শাখার সভাপতি জনাব শামিম হোসেন মাস্টারের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা শাখার সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা আমিনুল হক লিমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, নেত্রকোনা জেলা শাখার সভাপতি মুফতি নুরুল ইসলাম হাকিমী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, নেত্রকোনা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন মিসবাহ, দ্বীনি সংগঠন, পূর্বধলা উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতি শাফায়াত উল্লাহ, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ, পূর্বধলা উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মাজহারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা সাইফুর রহমান সাদী, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ, পূর্বধলা উপজেলা শাখার সভাপতি হাফেজ কারী মোজাম্মেল হক, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম, পূর্বধলা উপজেলা শাখার সদস্য সচিব আল আমিন শেখ, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ, পূর্বধলা উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা শামছুল ইসলাম আমিনী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি রিদওয়ান আল হোসাইন এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, পূর্বধলা উপজেলা শাখার সভাপতি আরিয়ান আহমদ ফাহিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি নুরুল ইসলাম হাকিমী মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে শুকরিয়া আদায় করে জুলাইয়ের সকল শহীদের শাহাদাত কবুল, জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর অতিক্রান্ত হলেও দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, খুন, গুম, সন্ত্রাস, বৈষম্য ও অবিচারের অবসান ঘটেনি। কেবল সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু মানুষের প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। ব্যক্তি নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার আদর্শ ও ব্যবস্থার পরিবর্তনই পারে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে। ইসলামী শাসনব্যবস্থা ন্যায়, ইনসাফ, জবাবদিহিতা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রকাশ্যে দলীয় ব্যানারে অংশগ্রহণ করে আন্দোলনরত জনগণের পাশে অবস্থান নিয়েছিল। আন্দোলনের সময় দলটির নেতাকর্মীরা মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালন করলেও আন্দোলনকে কখনো রাজনৈতিক কৃতিত্ব অর্জন বা ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেনি। বরং ন্যায়, ইনসাফ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার নৈতিক দায়িত্ব থেকেই তারা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজনীতিকে ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যম নয়; বরং দ্বীন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব ও ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করে। তিনি দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারাও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সবশেষে জুলাইয়ের সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা, দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

.
.