| আপডেট ৬:৫৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট

রায়হান সরকার :
প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে এবং অসংখ্য ভক্ত-গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাকে ওইদিন বিকালে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া গ্রামে হিন্দু রীতি শেষে বাউলশিল্পী সুনীল কর্মকার জীবদ্দশায় শিষ্য ও ভক্তদের কাছে করা ওছিয়ত অনুযায়ী মুসলমান বিধান মেনে জানাজা পড়ে ওই গ্রামে তার নিজস্ব ক্রয়করা ৩২ শতাংশ জায়গায় শায়িত করা হয়।
উল্লেখ্য, নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় জন্ম নেওয়া সুনীল কর্মকার মাত্র সাত বছর বয়স থেকেই গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভরাট ও আবেগময় কণ্ঠে যেকোনো আসর একাই মাতিয়ে তুলতে পারতেন তিনি। শুধু কণ্ঠ নয়, বেহালা, দোতারা, তবলা ও হারমোনিয়াম— একাধিক বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারদর্শী ছিলেন এই শিল্পী। বিখ্যাত বাউলশিল্পী ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর গান শুনেই গানের জগতে নিজেকে সঁপে দেন সুনীল। তার নিজের লেখা গানের সংখ্যাও কম নয়-প্রায় দেড়শো থেকে দুইশোর কাছাকাছি গান রচনা করেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। বরেণ্য বাউলশিল্পী দৃষ্টিহীন বাবু শ্রী সুনীল কর্মকার ১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার বান্দনাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা দীনেশ কর্মকার এবং মা কমলা কর্মকার। তিন ভাইয়ের মধ্যে সুনীল ছিলেন জ্যেষ্ঠ। দ্বিতীয় ভাই দীলিপ কর্মকার পেশায় একজন স্বর্ণশিল্পী। সর্বকনিষ্ঠ ভাই শ্রীমল কর্মকার। বাবা দীনেশ কর্মকার ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে আশ্রয় শিবিরে অসুস্থ হয়ে মারা যান। বাউল সাধক বাবু শ্রী সুনীল কর্মকার ময়মনসিংহ শহরে আমলাপাড়ায় সপরিবারে বসবাস করতেন। তার দুই ছেলে বিশ্বজিৎ, প্রসেনজিৎ এবং স্ত্রীকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস। দৃষ্টিহীন এই শিল্পী লোক সঙ্গীতে অবদানের জন্য ২০২২ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রদত্ত শিল্পকলা পদক লাভ করেন। বাউল সাধক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে আসে। তবে গৌরীপুরবাসী কলতাপাড়ায় তার সমাধির খবর তেমন কিছু জানে না।

.
.